-রিপোর্টঃ নর্থ ইস্ট নিউজ | ১৭ অক্টোবর ২০২৫
ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা (Military Intelligence–MI) দলের একটি প্রতিনিধিদল যখন ঢাকায় অবস্থান করছে, ঠিক সেই সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত দুটি পুরোনো বিমানঘাঁটি হঠাৎ পরিদর্শন করেছেন।
বিশ্বস্ত সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সেনাপ্রধান শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নির্মিত দুটি পুরোনো বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেন। উভয় স্থানই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের একেবারে নিকটে অবস্থিত।
এ সফরটি পরিকল্পিতভাবে গোপন রাখা হয়। সেনা সদর দপ্তর থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই সফর কেবল “রুটিন পরিদর্শন” নয়—এটি দেশের উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এর আগে ১৪ অক্টোবর ভারতীয় MI টিম ঢাকায় আসে, যাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সীমিত বৈঠক হয়। দলটি এখনো (১৭ অক্টোবর) ঢাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। ফলে সেনাপ্রধানের এই সফর কূটনৈতিক পর্যায়েও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার অবকাঠামো, যেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ এসব ঘাঁটির কিছু অংশ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পুরোনো ঘাঁটিগুলো পুনরায় সক্রিয় করার মাধ্যমে সীমান্ত প্রতিরক্ষা ও আকাশ নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নিতে পারে বাংলাদেশ।
এ সফরের পর জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নীলফামারীর সৈয়দপুর সামরিক স্থাপনাও পরিদর্শন করেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সেখানে তিনি স্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অবকাঠামো ও সরঞ্জাম হালনাগাদ নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
এদিকে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা দলের ঢাকায় উপস্থিতি ও সেনাপ্রধানের উত্তরাঞ্চল সফর—দুটি ঘটনা মিলিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলে। বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলে সম্ভাব্য সামরিক পুনর্বিন্যাস ও গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।
সূত্র: Northeast News








Leave a Reply